ফাঁকা মাঠে কাউকে গোল দিতে দেওয়া হনে না।

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

অন্যান্য সরকারের সময় ভোট চুরি হতো আর ২৬-এর নির্বাচনে বিএনপি ভোটের ফলাফল চুরি করেছে বলে মন্তব্য করেছেন এনসিপির দক্ষিনাঞ্চলের মূখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ। সোমবার বিকেলে চুয়াডাঙ্গা শহরের শহীদ হাসান চত্বরে এনসিপির দেশ গড়তে জুলাই জাগরণ কর্মসূচির পদযাত্রা ও পথ সভায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ২০১৪ সালের বিনা ভোটের নির্বাচন হয়েছে, ২০১৮ সালে মিডনাইট ইলেকশন হয়েছে, ২০২৪ সালে হয়েছে আমি ডামির নির্বাচন। সবশেষ ২০২৬ সালের যে নির্বাচনটি হলো সে নির্বাচনেও ভোট চুরি হয়েছে। তবে সেটা ফলাফলের পরে। অন্যান্য সরকার ভোট চুরি করতো আর এই বিএনপি সরকার ভোটের ফলাফল চুরি করেছে।

বিভিন্ন খাতে দলীয় করণের অভিযোগ তুলে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ব্যাংক খাত থেকে শুরু করে, বিশ্ববিদ্যালয় এমনকি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে বিএনপির লোকজন বসানো হয়েছে। একই কায়দায় গত পরশু ১২টি প্রতিষ্ঠানে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের নিয়োগ দেয়া হয়েছে। সবার আগে বাংলাদেশ এই স্লোগান বিএনপি বাস্তবে ধারন করে না। তারা বিশ্বাস করে সবার আগে রাজনৈতিক দল, সবার আগে শুধুমাত্র দলীয়করণ। আওয়ামী লীগের মতো ভোট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মতো করে বিএনপিও ভোট ইঞ্জিনিয়ারিংয়েল নীল নকশা এখন থেকেই শুরু করা হয়েছে।

এনসিপি নেতা ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ভোটে জণগন যাদেরকে রেডকার্ড দেখিয়েছে, এই বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসে তাদেরকে বিভিন্ন জায়গায় প্রশাসক পদে বসাচ্ছে। তারা প্রশাসক পদে বসে বিএনপির দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে মাদক ব্যবসা, টেন্ডারবাজি ও চাঁদাবাজিতে যুক্ত হচ্ছে।

পথসভায় এনসিপির সদস্য সচিব ও রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বলেন, ২৪ এর অভ্যূত্থানে বাংলাদেশের লাখো কোটি জনতা অংশগ্রহন করেছিল। বাংলাদেশকে স্বাধীন করতে সেই বিপ্লবে অসংখ্য মানুষ জীবন দিয়েছে, অসংখ্য মানুষ চোখে দেখতে পায় না, ভালো করে হাটতে পারে না। অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগের বিনিময়ে নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি। এই বাংলাদেশের প্রতীক ৩৬ জুলাই স্তম্ভ। এই স্তম্ভ যখন দেখে আওয়ামী লীগের মাথা গরম হয়ে যায়। অথচ এই স্তম্ভের কোন জীবন নেই, তবুও ওরা বিভিন্ন জায়গায় আগুন ধরিয়ে দেয়। কারণ এই স্তম্ভে যেসব উক্তি লেখা আছে, সেসব উক্তিই আওয়ামী লীগের সিংহাসনে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিল।

এ কর্মসূচিতে আরও অংশ নেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার তুষার, আলী আহসান জুনায়েদ, নুসরাত তাবাসসুম, যুগ্ম সদস্য সচিব ফরিদুল হক, মোল্লা ফারুক এহসান, নারী শক্তির সদস্য সচিব ডা. মাহমুদা মিতু, চুয়াডাঙ্গা এনসিপির আহ্বায়ক খাজা আমিরুল বাশার বিপ্লব ও সদস্য সচিব আলমগীর হোসেন।

পথসভায় চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে খাজা আমিরুল বাশার বিপ্লবকে এনসিপির প্রার্থী হিসেবে পরিচয় করানো হয়।