চুয়াডাঙ্গা ০৩:৩১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিপদে মানুষ কেন আল্লাহর দিকে ফিরে যায়? ইসলামে ‘ফিতরাত’ সম্পর্কে যা বলে কোরআন ও হাদিস

  • প্রকাশ: ০৯:২৩:১৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
  • 27

সংগৃহীত ছবি

মানুষ যখন কঠিন বিপদ, সংকট বা অসহায় পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়, তখন স্বাভাবিকভাবেই তার হৃদয়ে স্রষ্টার প্রতি নির্ভরতা ও সাহায্য প্রার্থনার অনুভূতি জাগে। ইসলামী চিন্তাধারায় এই সহজাত প্রবৃত্তিকে বলা হয় ‘ফিতরাত’—যার মাধ্যমে মানুষ তার সৃষ্টিকর্তাকে চিনতে ও তাঁর দিকে ফিরে যেতে উদ্বুদ্ধ হয়।

কোরআনের বিভিন্ন আয়াতে আল্লাহ তাআলা মানুষের এই স্বভাবগত প্রবণতার কথা উল্লেখ করেছেন। সুরা ইউনুসের ১২ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, মানুষ যখন কষ্টে পড়ে, তখন সে সব অবস্থায় আল্লাহকে ডাকে; কিন্তু বিপদ কেটে গেলে অনেক সময় সেই আহ্বান ভুলে যায়। একইভাবে সুরা ফুসসিলাতের ৫১ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, স্বাচ্ছন্দ্যের সময় মানুষ উদাসীন হলেও বিপদে সে দীর্ঘ প্রার্থনায় লিপ্ত হয়।

সমুদ্রযাত্রার উদাহরণ দিয়ে সুরা ইউনুসের ২২ নম্বর আয়াতে বর্ণনা করা হয়েছে, ঝড়-তুফানের মুখে মানুষ একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করে। এসব আয়াত থেকে ইসলামী চিন্তাবিদরা বলেন, মানুষের অন্তরে স্রষ্টার অস্তিত্ব ও তাঁর প্রতি নির্ভরতার একটি সহজাত অনুভূতি রয়েছে।

রাসুলুল্লাহ (সা.) একটি হাদিসে বলেন, “প্রত্যেক নবজাতক ফিতরাতের ওপর জন্মগ্রহণ করে; এরপর তার পিতা-মাতা তাকে ইহুদি, খ্রিস্টান অথবা অগ্নিপূজক বানিয়ে দেয়।” (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৩৮৫)। ইসলামী ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এখানে ‘ফিতরাত’ বলতে মানুষের স্বাভাবিক ও সত্যমুখী প্রবৃত্তিকে বোঝানো হয়েছে।

কোরআনের সুরা আর-রুমের ৩০ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, আল্লাহ মানুষকে তাঁর নির্ধারিত ফিতরাতের ওপর সৃষ্টি করেছেন। পাশাপাশি সুরা আল-আরাফের ১৭২ নম্বর আয়াতে মানুষের সঙ্গে স্রষ্টার আদিম অঙ্গীকারের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

ইসলামী গবেষকদের মতে, ফিতরাত মানুষের অন্তরে সত্য ও স্রষ্টার প্রতি আকর্ষণের ভিত্তি তৈরি করে। তবে এই প্রবৃত্তিকে সঠিকভাবে বিকশিত করতে আল্লাহর ওহি, কোরআনের দিকনির্দেশনা এবং নবী-রাসুলদের শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সুরা আশ-শামসের ৭-১০ নম্বর আয়াতে নফসের পরিশুদ্ধতা ও তাকওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষের অন্তরের এই সহজাত প্রবণতা ধর্মীয় অনুভূতি ও নৈতিক চেতনার একটি মৌলিক ভিত্তি হিসেবে কাজ করে, যা সংকটের সময় আরও স্পষ্টভাবে প্রকাশ পায়।

জনপ্রিয়

বোরহানউদ্দিনে বাকপ্রতিবন্ধী যুবক নিখোঁজ, সন্ধান চেয়ে পরিবারের আকুতি

বিপদে মানুষ কেন আল্লাহর দিকে ফিরে যায়? ইসলামে ‘ফিতরাত’ সম্পর্কে যা বলে কোরআন ও হাদিস

প্রকাশ: ০৯:২৩:১৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

মানুষ যখন কঠিন বিপদ, সংকট বা অসহায় পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়, তখন স্বাভাবিকভাবেই তার হৃদয়ে স্রষ্টার প্রতি নির্ভরতা ও সাহায্য প্রার্থনার অনুভূতি জাগে। ইসলামী চিন্তাধারায় এই সহজাত প্রবৃত্তিকে বলা হয় ‘ফিতরাত’—যার মাধ্যমে মানুষ তার সৃষ্টিকর্তাকে চিনতে ও তাঁর দিকে ফিরে যেতে উদ্বুদ্ধ হয়।

কোরআনের বিভিন্ন আয়াতে আল্লাহ তাআলা মানুষের এই স্বভাবগত প্রবণতার কথা উল্লেখ করেছেন। সুরা ইউনুসের ১২ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, মানুষ যখন কষ্টে পড়ে, তখন সে সব অবস্থায় আল্লাহকে ডাকে; কিন্তু বিপদ কেটে গেলে অনেক সময় সেই আহ্বান ভুলে যায়। একইভাবে সুরা ফুসসিলাতের ৫১ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, স্বাচ্ছন্দ্যের সময় মানুষ উদাসীন হলেও বিপদে সে দীর্ঘ প্রার্থনায় লিপ্ত হয়।

সমুদ্রযাত্রার উদাহরণ দিয়ে সুরা ইউনুসের ২২ নম্বর আয়াতে বর্ণনা করা হয়েছে, ঝড়-তুফানের মুখে মানুষ একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করে। এসব আয়াত থেকে ইসলামী চিন্তাবিদরা বলেন, মানুষের অন্তরে স্রষ্টার অস্তিত্ব ও তাঁর প্রতি নির্ভরতার একটি সহজাত অনুভূতি রয়েছে।

রাসুলুল্লাহ (সা.) একটি হাদিসে বলেন, “প্রত্যেক নবজাতক ফিতরাতের ওপর জন্মগ্রহণ করে; এরপর তার পিতা-মাতা তাকে ইহুদি, খ্রিস্টান অথবা অগ্নিপূজক বানিয়ে দেয়।” (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৩৮৫)। ইসলামী ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এখানে ‘ফিতরাত’ বলতে মানুষের স্বাভাবিক ও সত্যমুখী প্রবৃত্তিকে বোঝানো হয়েছে।

কোরআনের সুরা আর-রুমের ৩০ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, আল্লাহ মানুষকে তাঁর নির্ধারিত ফিতরাতের ওপর সৃষ্টি করেছেন। পাশাপাশি সুরা আল-আরাফের ১৭২ নম্বর আয়াতে মানুষের সঙ্গে স্রষ্টার আদিম অঙ্গীকারের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

ইসলামী গবেষকদের মতে, ফিতরাত মানুষের অন্তরে সত্য ও স্রষ্টার প্রতি আকর্ষণের ভিত্তি তৈরি করে। তবে এই প্রবৃত্তিকে সঠিকভাবে বিকশিত করতে আল্লাহর ওহি, কোরআনের দিকনির্দেশনা এবং নবী-রাসুলদের শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সুরা আশ-শামসের ৭-১০ নম্বর আয়াতে নফসের পরিশুদ্ধতা ও তাকওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষের অন্তরের এই সহজাত প্রবণতা ধর্মীয় অনুভূতি ও নৈতিক চেতনার একটি মৌলিক ভিত্তি হিসেবে কাজ করে, যা সংকটের সময় আরও স্পষ্টভাবে প্রকাশ পায়।