দর্শনা অফিস-
দর্শনায় একটি বেসরকারি মুক্তি ক্লিনিকে সিজারিয়ান অপারেশনের প্রস্তুতিকালে এক প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় মৃতের স্বজনরা অপচিকিৎসার অভিযোগ তুললেও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। মৃত রেহানা খাতুন (২৫) দর্শনা পৌরসভার শ্যামপুর গ্রামের ইসরাফিল হোসেনের মেয়ে এবং কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়নের আরামডাঙ্গা গ্রামের নাজিম উদ্দিনের স্ত্রী।
স্বজনদের ভাষ্য, রোববার (২ আগস্ট) সকাল থেকে প্রসব বেদনা শুরু হলে বেলা ১১টার দিকে রেহানা খাতুনকে দর্শনা রেলগেট এলাকার মুক্তি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। পরে সিজারিয়ান অপারেশনের প্রস্তুতির জন্য তাকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়।
প্রসূতির খালাতো ভাই মো. জাহিদ হোসেন অভিযোগ করে বলেন, অপারেশনের আগে অজ্ঞান করার জন্য কয়েকটি ইনজেকশন দেওয়ার পরপরই আমার বোনের তীব্র খিচুনি শুরু হয়। এরপর তার অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষই গাড়ি ভাড়া করে তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে পৌছানোর পর চিকিৎসকরা জানান, রোগীটি আগেই মারা গেছেন। আমাদের দাবি, অপচিকিৎসার কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ক্লিনিকের এনেস্থিসিওলজিস্ট মো. মমিন হোসেন বলেন, অপারেশন শুরু করার আগেই রোগীর খিচুনি ওঠে। মেয়েটি খুব ভয় পেয়েছিল। আতঙ্কের কারণেই এমন ঘটনা ঘটতে পারে।
মুক্তি ক্লিনিকের চিকিৎসক ডা. সিমু বলেন, অপারেশন থিয়েটারে নেওয়ার পরপরই রোগী অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং খিচুনি শুরু হয়। আমরা তখনও অপারেশন শুরু করিনি, রোগীর শরীরে কোনো অস্ত্রোপচার বা স্পর্শও করা হয়নি। এনেস্থিসিওলজিস্ট প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিয়ে খিচুনি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। রোগীর অবস্থা কিছুটা স্থিতিশীল হলে দ্রুত মাইক্রোবাসযোগে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্বজনরা।










