চুয়াডাঙ্গা ০৪:৫৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের পরিদর্শন, 

  • প্রকাশ: ০১:৫৬:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬
  • 23

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি:

চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, বন্দিদের জীবনযাত্রার মান এবং সংশোধনমূলক কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা করতে জেলা কারাগার পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মিজ লুৎফুন নাহার এবং পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তারা কারাগারে গিয়ে বিভিন্ন কার্যক্রম ঘুরে দেখেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

পরিদর্শনকালে তারা কারাগারের বিভিন্ন ওয়ার্ড, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, বন্দিদের আবাসন, চিকিৎসাসেবা, খাদ্য সরবরাহ, পরিচ্ছন্নতা এবং দৈনন্দিন ব্যবস্থাপনা পর্যবেক্ষণ করেন। পাশাপাশি কারাগারে দায়িত্ব পালনরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করে দায়িত্বশীলতা, স্বচ্ছতা এবং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রেখে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার কারাগারে থাকা বিভিন্ন মামলার বন্দিদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন এবং তাদের সুবিধা-অসুবিধা, স্বাস্থ্যসেবা ও সার্বিক পরিবেশ সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। তারা বলেন, আইন অনুযায়ী প্রত্যেক বন্দির মানবিক অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। এজন্য কারাগারে শৃঙ্খলার পাশাপাশি একটি সহানুভূতিশীল পরিবেশ বজায় রাখা জরুরি।

পরিদর্শনের অংশ হিসেবে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বন্দিদের মাঝে বিভিন্ন ধরনের বই বিতরণ করা হয়। এ সময় পাঠাভ্যাস গড়ে তোলার মাধ্যমে বন্দিদের মানসিক বিকাশ, আত্মসমালোচনার সুযোগ সৃষ্টি এবং ইতিবাচক চিন্তার বিকাশ ঘটানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

জেলা প্রশাসক মিজ লুৎফুন নাহার বলেন, কারাগারের উদ্দেশ্য শুধু সাজা কার্যকর করা নয়; বরং সংশোধনের মাধ্যমে একজন মানুষকে সমাজে পুনরায় ইতিবাচকভাবে প্রতিষ্ঠিত হতে সহায়তা করা। তিনি বলেন, বই মানুষকে নতুনভাবে ভাবতে শেখায়, আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং জীবনের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করে। তাই বন্দিদের মধ্যে পাঠাভ্যাস বিস্তারে এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান বলেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বন্দিদের প্রতি মানবিক আচরণ এবং সংশোধনমূলক কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করা প্রয়োজন। তিনি সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব পালনে আন্তরিকতা ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখার আহ্বান জানান এবং কারাগারে শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখতে সবাইকে একযোগে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেন।

এ সময় কারাগারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বন্দিদের শিক্ষা, নৈতিক উন্নয়ন, মানসিক পুনর্বাসন এবং সমাজে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে সহায়ক কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে ভবিষ্যতেও জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশের সমন্বয়ে বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

Tag :
জনপ্রিয়

চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের পরিদর্শন, 

চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের পরিদর্শন, 

প্রকাশ: ০১:৫৬:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি:

চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, বন্দিদের জীবনযাত্রার মান এবং সংশোধনমূলক কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা করতে জেলা কারাগার পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মিজ লুৎফুন নাহার এবং পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তারা কারাগারে গিয়ে বিভিন্ন কার্যক্রম ঘুরে দেখেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

পরিদর্শনকালে তারা কারাগারের বিভিন্ন ওয়ার্ড, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, বন্দিদের আবাসন, চিকিৎসাসেবা, খাদ্য সরবরাহ, পরিচ্ছন্নতা এবং দৈনন্দিন ব্যবস্থাপনা পর্যবেক্ষণ করেন। পাশাপাশি কারাগারে দায়িত্ব পালনরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করে দায়িত্বশীলতা, স্বচ্ছতা এবং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রেখে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার কারাগারে থাকা বিভিন্ন মামলার বন্দিদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন এবং তাদের সুবিধা-অসুবিধা, স্বাস্থ্যসেবা ও সার্বিক পরিবেশ সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। তারা বলেন, আইন অনুযায়ী প্রত্যেক বন্দির মানবিক অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। এজন্য কারাগারে শৃঙ্খলার পাশাপাশি একটি সহানুভূতিশীল পরিবেশ বজায় রাখা জরুরি।

পরিদর্শনের অংশ হিসেবে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বন্দিদের মাঝে বিভিন্ন ধরনের বই বিতরণ করা হয়। এ সময় পাঠাভ্যাস গড়ে তোলার মাধ্যমে বন্দিদের মানসিক বিকাশ, আত্মসমালোচনার সুযোগ সৃষ্টি এবং ইতিবাচক চিন্তার বিকাশ ঘটানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

জেলা প্রশাসক মিজ লুৎফুন নাহার বলেন, কারাগারের উদ্দেশ্য শুধু সাজা কার্যকর করা নয়; বরং সংশোধনের মাধ্যমে একজন মানুষকে সমাজে পুনরায় ইতিবাচকভাবে প্রতিষ্ঠিত হতে সহায়তা করা। তিনি বলেন, বই মানুষকে নতুনভাবে ভাবতে শেখায়, আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং জীবনের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করে। তাই বন্দিদের মধ্যে পাঠাভ্যাস বিস্তারে এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান বলেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বন্দিদের প্রতি মানবিক আচরণ এবং সংশোধনমূলক কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করা প্রয়োজন। তিনি সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব পালনে আন্তরিকতা ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখার আহ্বান জানান এবং কারাগারে শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখতে সবাইকে একযোগে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেন।

এ সময় কারাগারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বন্দিদের শিক্ষা, নৈতিক উন্নয়ন, মানসিক পুনর্বাসন এবং সমাজে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে সহায়ক কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে ভবিষ্যতেও জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশের সমন্বয়ে বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।