চুয়াডাঙ্গা ০১:০৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আলমডাঙ্গায় শিবিরের সাবেক সভাপতির ওপর হামলা: জামায়াত-বিএনপির পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ

  • প্রকাশ: ০৩:৪৩:৩১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬
  • 69

স্টাফ রিপোর্টার| রানা আফান্দীঃ

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক জেলা সভাপতি মো. আরিফুল ইসলাম (২৮) এর ওপর হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে মুখোমুখি অবস্থানে গেছে জামায়াতে ইসলামী ও আলমডাঙ্গা উপজেলা বিএনপি।

হামলার প্রতিবাদে জামায়াত বিক্ষোভ মিছিল করে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। এর প্রায় আধা ঘণ্টা পর বিএনপি পাল্টা বিক্ষোভ মিছিল করেছে। দুই দলের পাল্টাপাল্টি পৃথক কর্মসূচিতে রাতে শহরে রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

গতকাল (সোমবার) দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে আলমডাঙ্গা পৌরসভার নান্নু-টগর মোড় এলাকায় আরিফুল ইসলামের ওপর কয়েকজন ব্যক্তি হামলা করেন বলে অভিযোগ। তাঁকে ঘিরে ধরে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তিনি মাটিতে পড়ে গেলে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাঁকে উদ্ধার করেন। পরে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন।আহত আরিফুল ইসলাম উপজেলার হারদী ইউনিয়নের ওসমানপুর গ্রামের বাসিন্দা বজলুর রহমানের ছেলে।

স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী , ঘটনার সময় আরিফুল ইসলাম নান্নু-টগর রোড এলাকায় ছিলেন। এ সময় কয়েকজন ব্যক্তি তাঁকে ঘিরে ধরে মারধর করেন। তবে হামলাকারীদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

আহত আরিফুল ইসলাম বলেন , হঠাৎ কয়েকজন আমার ওপর হামলা করে। তাঁরা আমাকে মারধর করে আহত করেন। আমি তাঁদের কয়েকজনকে চিনতে পারিনি। কেন হামলা করা হয়েছে , তা জানি না। বিষয়টি থানায় জানিয়েছি।

হামলার পেছনে কী কারণ রয়েছে , সেটিও এখনো নিশ্চিত নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে হামলার ঘটনা ঘটতে পারে বলে স্থানীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে। তবে এ দাবির স্বাধীন কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।

তবে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে সরাসরি অভিযোগ করা হয়েছে , বিএনপির কর্মীরা আরিফুল ইসলামের ওপর হামলা চালিয়েছে। বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগটি অস্বীকার বা সমর্থন করে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

হামলার প্রতিবাদে সোমবার মাগরিবের নামাজের পর আলমডাঙ্গা হাইরোডে বিক্ষোভ মিছিল বের করে জামায়াতে ইসলামী। মিছিলটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে থানার সামনে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা হামলাকারীদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের দাবি জানান। একই সঙ্গে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

বিক্ষোভ শেষে রাত ৮টার দিকে আলমডাঙ্গা থানায় হামলার ঘটনায় লিখিত অভিযোগ দেয় জামায়াতে ইসলামী। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয় , ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে।

জামায়াতে ইসলামীর জেলা যুব বিভাগের সভাপতি নুর মোহাম্মদ টিপু বলেন , প্রকাশ্যে একজন রাজনৈতিক কর্মীর ওপর হামলার ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে হামলাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।

জামায়াতের কর্মসূচির পর রাত সাড়ে ৮টার দিকে আলমডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে পাল্টা বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি আলমডাঙ্গা হাইরোড প্রদক্ষিণ করে আলতায়েবা মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে বিএনপির নেতা-কর্মীরা সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন।

এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত হামলার ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। ফলে হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে দুই রাজনৈতিক দলের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি চললেও ঘটনার সঙ্গে প্রকৃতপক্ষে কারা জড়িত , সেটিই এখন তদন্তের মূল বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Tag :
জনপ্রিয়

আলমডাঙ্গায় মাদক ‘কন্ট্রোলার’ কেশবপুরের ইমদাদুল গ্রেফতার সীমান্তঘেঁষা এলাকায় কারবার নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ, জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ

আলমডাঙ্গায় শিবিরের সাবেক সভাপতির ওপর হামলা: জামায়াত-বিএনপির পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ

প্রকাশ: ০৩:৪৩:৩১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার| রানা আফান্দীঃ

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক জেলা সভাপতি মো. আরিফুল ইসলাম (২৮) এর ওপর হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে মুখোমুখি অবস্থানে গেছে জামায়াতে ইসলামী ও আলমডাঙ্গা উপজেলা বিএনপি।

হামলার প্রতিবাদে জামায়াত বিক্ষোভ মিছিল করে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। এর প্রায় আধা ঘণ্টা পর বিএনপি পাল্টা বিক্ষোভ মিছিল করেছে। দুই দলের পাল্টাপাল্টি পৃথক কর্মসূচিতে রাতে শহরে রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

গতকাল (সোমবার) দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে আলমডাঙ্গা পৌরসভার নান্নু-টগর মোড় এলাকায় আরিফুল ইসলামের ওপর কয়েকজন ব্যক্তি হামলা করেন বলে অভিযোগ। তাঁকে ঘিরে ধরে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তিনি মাটিতে পড়ে গেলে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাঁকে উদ্ধার করেন। পরে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন।আহত আরিফুল ইসলাম উপজেলার হারদী ইউনিয়নের ওসমানপুর গ্রামের বাসিন্দা বজলুর রহমানের ছেলে।

স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী , ঘটনার সময় আরিফুল ইসলাম নান্নু-টগর রোড এলাকায় ছিলেন। এ সময় কয়েকজন ব্যক্তি তাঁকে ঘিরে ধরে মারধর করেন। তবে হামলাকারীদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

আহত আরিফুল ইসলাম বলেন , হঠাৎ কয়েকজন আমার ওপর হামলা করে। তাঁরা আমাকে মারধর করে আহত করেন। আমি তাঁদের কয়েকজনকে চিনতে পারিনি। কেন হামলা করা হয়েছে , তা জানি না। বিষয়টি থানায় জানিয়েছি।

হামলার পেছনে কী কারণ রয়েছে , সেটিও এখনো নিশ্চিত নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে হামলার ঘটনা ঘটতে পারে বলে স্থানীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে। তবে এ দাবির স্বাধীন কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।

তবে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে সরাসরি অভিযোগ করা হয়েছে , বিএনপির কর্মীরা আরিফুল ইসলামের ওপর হামলা চালিয়েছে। বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগটি অস্বীকার বা সমর্থন করে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

হামলার প্রতিবাদে সোমবার মাগরিবের নামাজের পর আলমডাঙ্গা হাইরোডে বিক্ষোভ মিছিল বের করে জামায়াতে ইসলামী। মিছিলটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে থানার সামনে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা হামলাকারীদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের দাবি জানান। একই সঙ্গে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

বিক্ষোভ শেষে রাত ৮টার দিকে আলমডাঙ্গা থানায় হামলার ঘটনায় লিখিত অভিযোগ দেয় জামায়াতে ইসলামী। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয় , ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে।

জামায়াতে ইসলামীর জেলা যুব বিভাগের সভাপতি নুর মোহাম্মদ টিপু বলেন , প্রকাশ্যে একজন রাজনৈতিক কর্মীর ওপর হামলার ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে হামলাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।

জামায়াতের কর্মসূচির পর রাত সাড়ে ৮টার দিকে আলমডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে পাল্টা বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি আলমডাঙ্গা হাইরোড প্রদক্ষিণ করে আলতায়েবা মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে বিএনপির নেতা-কর্মীরা সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন।

এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত হামলার ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। ফলে হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে দুই রাজনৈতিক দলের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি চললেও ঘটনার সঙ্গে প্রকৃতপক্ষে কারা জড়িত , সেটিই এখন তদন্তের মূল বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।