চুয়াডাঙ্গা ১২:৩৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আলমডাঙ্গায় সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিককে ফাঁসাতে সাজানো বয়ান: স্বীকার করলেন এলজিইডি’র এসও

  • প্রকাশ: ০৩:৪১:১৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬
  • 66

রিপোর্ট ,আলমডাঙ্গা অফিসঃ

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা আসাননগর সড়ক নির্মাণে অনিয়ম ও কারচুপির খবর ছাপানোর জেরে এক সাংবাদিককে সামাজিকভাবে শেষ করে দিতে ও চাকরিতে বদনাম করতে তৈরি করা হয় সাজানো বক্তব্য। সেই বক্তব্যে সাংবাদিক আল-আমিন পরশের বিরুদ্ধে ঠিকাদারের কাছে ২০ হাজার টাকা চাওয়ার অভিযোগ আনা হয়।

কিন্তু সেই ঠিকাদার নিজেই বলেন , আমি ওই সাংবাদিককে চিনিই না , তাঁর সঙ্গে কোনো কথা হয়নি। আর বক্তব্য দানকারী এলজিইডি’র উপসহকারী প্রকৌশলী (এসও) হাবিবুর রহমান হাবিব পরে জানান ,
চাপে পড়ে আমি ওই বক্তব্য দিতে বাধ্য হয়েছি। তাতে অনেক কিছুই মিথ্যা।

গত বৃহস্পতিবার সাদ্দাম খান নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে এলজিইডি’র এই কর্মকর্তার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। তাতে সাংবাদিক আল-আমিন পরশের বিরুদ্ধে ঠিকাদারের কাছে ২০ হাজার টাকা দাবির অভিযোগ তোলা হয়। ভিডিওটি রাতারাতি ছড়িয়ে পড়ায় এলাকায় তুমুল আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

কিন্তু খোদ সেই ঠিকাদার লাল্টু যখন ফোন ধরেন , তখন তিনি বলেন , ভাই , আল-আমিন বলে কাউকে আমি চিনি-ই না। তাঁর সঙ্গে আমার কোনো কথা হয় নাই। উনি তো শুধু তাঁর কাজ করেছেন। টাকা চাওয়ার ব্যাপারটা একেবারেই ভুয়া। অর্থাৎ , যে ঠিকাদারের কাছে টাকা চাওয়ার কথা বলা হয়েছে , সেই ঠিকাদার-ই বলছেন , এমন কিছু হয়নি।

অন্যদিকে ভিডিওতে যে বক্তব্য দিয়েছেন এলজিইডি’র এসও হাবিবুর রহমান হাবিব , তিনিও পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পাল্টা কথা বলেন। তিনি বলেন , ওই দিন বিকেলে থানাপাড়ার সাদ্দাম নামে এক লোক আমার অফিসে আসে। সে নিজেকে আবার সাংবাদিক আবার কখনো দুদকের লোক বলে পরিচয় দেয়। ওই লোক আরেকজনের চাপে পড়ে আমি কথা বলতে বাধ্য হই। পরে দেখি ভিডিওটা ভাইরাল।

হাবিব আরও বলেন , ওরা আমাকে বলেছিল আলমডাঙ্গার সাংবাদিক আল-আমিন পরশ ও কালিদাসপুরের চেয়ারম্যান আসাদুল হক মিকার ইশারায় নজরুল মেম্বারের সঙ্গে ২০ হাজার টাকা লেনদেনের কথা বলতে। আমি চাপে পড়ে কিছু কথা বলেছি। এখন ওসবের অনেক কিছুই সত্য নয়। কাউকে কষ্ট দিয়ে থাকলে আমি ক্ষমা চাই।

হাবিবের দাবি , সাদ্দামকে চেয়ারম্যান আসাদুল হক মিকাই পাঠিয়েছিলেন। তবে চেয়ারম্যানের কোনো শত্রুতার কথা তিনি জানেন না বলে জানান।

কিন্তু চেয়ারম্যান আসাদুল হক মিকা এসব কথায় রাগান্বিত হন। তিনি বলেন , আমি কিছুই জানি না। সাদ্দাম আমার ইউনিয়ন পরিষদে এসেছিল। আমার ইউনিয়নের এক মেয়ে তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে , সেই নিয়ে আলোচনা করতে এসেছিল। আমার সঙ্গে এসবের কোনো সম্পর্ক নেই।

সাংবাদিক আল-আমিন পরশ ক্ষোভের সঙ্গে বলেন , আমি আসাননগর সড়কের কারচুপির খবর দিয়েছি। তারপর থেকেই আমাকে নিয়ে এই নোংরা খেলা চলছে। আমার বিরুদ্ধে টাকা চাওয়ার কথা একেবারেই মিথ্যা , বানোয়াট ও পরিকল্পিত।

তিনি আরও বলেন , এই অপপ্রচারের মাধ্যমে আমার পেশাগত ও সামাজিক সুনাম নষ্ট করার চেষ্টা চলছে। আমি এটা মেনে নেব না। আইনি ব্যবস্থা নেব।

এ ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিকরা উত্তপ্ত। তাঁদের প্রশ্ন , যে ঠিকাদারের কাছে টাকা চাওয়ার অভিযোগ , সেই ঠিকাদার-ই যখন বলছেন এমন কিছু হয়নি , তাহলে কীভাবে ভিডিওটা ছাড়া হলো? আর সরকারি অফিসে বসে কর্মকর্তাকে যদি চাপ দিয়ে বক্তব্য নেওয়া হয় , তাহলে সেই কর্মকর্তা তখন আইনি ব্যবস্থা না নিয়ে কেন পরে কথা বললেন?

স্থানীয় লোকজন বলছেন , সাদ্দাম নামের ওই লোকটি আগেও বিভিন্ন সময় নিজেকে পুলিশ , সাংবাদিক , দুদকের লোক বলে চিনিয়ে মানুষকে ঠকানোর চেষ্টা করেছে। তবে তা যাচাই করে বলা যায়নি।

এদিকে প্রশ্ন উঠেছে আসাননগর সড়কের কারচুপির খবর ছাপানোর জেরেই কি সাংবাদিক আল-আমিন পরশকে ফাঁসাতে এই বানোয়াট বক্তব্য ও ভিডিও তৈরি করা হয়েছিল? স্থানীয় সাংবাদিকরা এ বিষয়ে দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

Tag :
জনপ্রিয়

আলমডাঙ্গায় মাদক ‘কন্ট্রোলার’ কেশবপুরের ইমদাদুল গ্রেফতার সীমান্তঘেঁষা এলাকায় কারবার নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ, জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ

আলমডাঙ্গায় সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিককে ফাঁসাতে সাজানো বয়ান: স্বীকার করলেন এলজিইডি’র এসও

প্রকাশ: ০৩:৪১:১৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬

রিপোর্ট ,আলমডাঙ্গা অফিসঃ

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা আসাননগর সড়ক নির্মাণে অনিয়ম ও কারচুপির খবর ছাপানোর জেরে এক সাংবাদিককে সামাজিকভাবে শেষ করে দিতে ও চাকরিতে বদনাম করতে তৈরি করা হয় সাজানো বক্তব্য। সেই বক্তব্যে সাংবাদিক আল-আমিন পরশের বিরুদ্ধে ঠিকাদারের কাছে ২০ হাজার টাকা চাওয়ার অভিযোগ আনা হয়।

কিন্তু সেই ঠিকাদার নিজেই বলেন , আমি ওই সাংবাদিককে চিনিই না , তাঁর সঙ্গে কোনো কথা হয়নি। আর বক্তব্য দানকারী এলজিইডি’র উপসহকারী প্রকৌশলী (এসও) হাবিবুর রহমান হাবিব পরে জানান ,
চাপে পড়ে আমি ওই বক্তব্য দিতে বাধ্য হয়েছি। তাতে অনেক কিছুই মিথ্যা।

গত বৃহস্পতিবার সাদ্দাম খান নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে এলজিইডি’র এই কর্মকর্তার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। তাতে সাংবাদিক আল-আমিন পরশের বিরুদ্ধে ঠিকাদারের কাছে ২০ হাজার টাকা দাবির অভিযোগ তোলা হয়। ভিডিওটি রাতারাতি ছড়িয়ে পড়ায় এলাকায় তুমুল আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

কিন্তু খোদ সেই ঠিকাদার লাল্টু যখন ফোন ধরেন , তখন তিনি বলেন , ভাই , আল-আমিন বলে কাউকে আমি চিনি-ই না। তাঁর সঙ্গে আমার কোনো কথা হয় নাই। উনি তো শুধু তাঁর কাজ করেছেন। টাকা চাওয়ার ব্যাপারটা একেবারেই ভুয়া। অর্থাৎ , যে ঠিকাদারের কাছে টাকা চাওয়ার কথা বলা হয়েছে , সেই ঠিকাদার-ই বলছেন , এমন কিছু হয়নি।

অন্যদিকে ভিডিওতে যে বক্তব্য দিয়েছেন এলজিইডি’র এসও হাবিবুর রহমান হাবিব , তিনিও পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পাল্টা কথা বলেন। তিনি বলেন , ওই দিন বিকেলে থানাপাড়ার সাদ্দাম নামে এক লোক আমার অফিসে আসে। সে নিজেকে আবার সাংবাদিক আবার কখনো দুদকের লোক বলে পরিচয় দেয়। ওই লোক আরেকজনের চাপে পড়ে আমি কথা বলতে বাধ্য হই। পরে দেখি ভিডিওটা ভাইরাল।

হাবিব আরও বলেন , ওরা আমাকে বলেছিল আলমডাঙ্গার সাংবাদিক আল-আমিন পরশ ও কালিদাসপুরের চেয়ারম্যান আসাদুল হক মিকার ইশারায় নজরুল মেম্বারের সঙ্গে ২০ হাজার টাকা লেনদেনের কথা বলতে। আমি চাপে পড়ে কিছু কথা বলেছি। এখন ওসবের অনেক কিছুই সত্য নয়। কাউকে কষ্ট দিয়ে থাকলে আমি ক্ষমা চাই।

হাবিবের দাবি , সাদ্দামকে চেয়ারম্যান আসাদুল হক মিকাই পাঠিয়েছিলেন। তবে চেয়ারম্যানের কোনো শত্রুতার কথা তিনি জানেন না বলে জানান।

কিন্তু চেয়ারম্যান আসাদুল হক মিকা এসব কথায় রাগান্বিত হন। তিনি বলেন , আমি কিছুই জানি না। সাদ্দাম আমার ইউনিয়ন পরিষদে এসেছিল। আমার ইউনিয়নের এক মেয়ে তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে , সেই নিয়ে আলোচনা করতে এসেছিল। আমার সঙ্গে এসবের কোনো সম্পর্ক নেই।

সাংবাদিক আল-আমিন পরশ ক্ষোভের সঙ্গে বলেন , আমি আসাননগর সড়কের কারচুপির খবর দিয়েছি। তারপর থেকেই আমাকে নিয়ে এই নোংরা খেলা চলছে। আমার বিরুদ্ধে টাকা চাওয়ার কথা একেবারেই মিথ্যা , বানোয়াট ও পরিকল্পিত।

তিনি আরও বলেন , এই অপপ্রচারের মাধ্যমে আমার পেশাগত ও সামাজিক সুনাম নষ্ট করার চেষ্টা চলছে। আমি এটা মেনে নেব না। আইনি ব্যবস্থা নেব।

এ ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিকরা উত্তপ্ত। তাঁদের প্রশ্ন , যে ঠিকাদারের কাছে টাকা চাওয়ার অভিযোগ , সেই ঠিকাদার-ই যখন বলছেন এমন কিছু হয়নি , তাহলে কীভাবে ভিডিওটা ছাড়া হলো? আর সরকারি অফিসে বসে কর্মকর্তাকে যদি চাপ দিয়ে বক্তব্য নেওয়া হয় , তাহলে সেই কর্মকর্তা তখন আইনি ব্যবস্থা না নিয়ে কেন পরে কথা বললেন?

স্থানীয় লোকজন বলছেন , সাদ্দাম নামের ওই লোকটি আগেও বিভিন্ন সময় নিজেকে পুলিশ , সাংবাদিক , দুদকের লোক বলে চিনিয়ে মানুষকে ঠকানোর চেষ্টা করেছে। তবে তা যাচাই করে বলা যায়নি।

এদিকে প্রশ্ন উঠেছে আসাননগর সড়কের কারচুপির খবর ছাপানোর জেরেই কি সাংবাদিক আল-আমিন পরশকে ফাঁসাতে এই বানোয়াট বক্তব্য ও ভিডিও তৈরি করা হয়েছিল? স্থানীয় সাংবাদিকরা এ বিষয়ে দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।