চুয়াডাঙ্গা ১২:৩৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আলমডাঙ্গার বেলগাছীতে জমি দখলকে ঘিরে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

  • প্রকাশ: ০৬:৫০:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬
  • 65

রিপোর্ট , আলমডাঙ্গা অফিসঃ

আলমডাঙ্গা উপজেলার বেলগাছী গ্রামে জোরপূর্বক জমি দখলের অভিযোগকে মিথ্যা ও বানোয়াট বলে উড়িয়ে দিয়ে পাল্টা আইনি কাগজপত্র দেখিয়েছেন অভিযুক্ত বাবলু রহমান , রাজু ও বিল্লাল। তাঁরা জানান , বিরোধপূর্ণ জমির কিছু অংশ তাঁদের ফুফুদের কাছ থেকে দলিলমূলে কিনেছেন তাঁদের বাবা। অন্যদিকে , অভিযোগকারী মঞ্জু রহমান ও তাঁর পরিবার দীর্ঘদিন ধরে ওই জমি ভোগদখল করে আসছেন বলে তাঁদের দাবি।

বুধবার (১২ আগস্ট) সরেজমিনে অভিযুক্ত তিনজন সাংবাদিকদের কাছে দলিলের কপি ও ভূমি অফিসের রেকর্ড দেখান। তাঁরা জানান , তাঁদের ফুফু সাহারন নেছা ও বাহারন নেছা যথাক্রমে ১৯৯৯ ও ১৯৯৫ সালে নিজেদের ভাই ভেকু মালিথা ও আজিমউদ্দিন মালিথার কাছে ফারাজি জমি বিক্রি করেন। এই বিক্রয় সংক্রান্ত আলাদা দুটি দলিল তাঁদের কাছে রয়েছে।

অভিযুক্তরা বলেন , ফুফুদের কাছ থেকে কেনা জমি দীর্ঘদিন ধরে তফেলউদ্দিনের ছেলে মঞ্জু ও তাঁর চার বোন ভোগ করে আসছেন। আমরা ভূমি অফিস থেকে খতিয়ান , দাগ নম্বর ও অন্যান্য নথি সংগ্রহ করে নিজেদের ন্যায্য দাবি জানিয়েছি। কাগজপত্র যাচাই করলেই বোঝা যাবে , আমরা কারও জমি দখল করতে যাইনি।

তাঁরা, জে. এল. ৭৮- নং বেলগাছী মৌজার আরএস রেকর্ডের বরাত দিয়ে জানান , খতিয়ান নম্বর ২৫৯২-তে দাগ নম্বর ১১৮৯৯-এ ২৯ শতক এবং একই মৌজার খতিয়ান নম্বর ২৫৯৩-তে দাগ নম্বর ১৬১৩২ , ১৬২৫২ ও ১৬৪৪১-এ যথাক্রমে ৪৮ , ৫১ ও ২৩ শতক জমির মধ্যে তাঁদের কেনা অংশ রয়েছে। খতিয়ান নম্বর ২৫৯২-তে আরও ১০টি দাগে তাঁদের ক্রয়কৃত জমি থাকলেও সেসব মঞ্জু ও তাঁর পরিবার ভোগ করছেন বলে অভিযোগ করেন তাঁরা। দাগগুলো হলো- ৫৪৭০ , ৫৪৯০ , ১২০৮৯ , ১২১৭২ , ১২১৭৩ , ১১৮৯৯ , ১২৫৩০ , ১৬২৫৯ , ১৬৩১৩ ও ১৬৪১০।

এ প্রসঙ্গে ভেকু মালিথার ছেলে রাজু ও আজিমউদ্দিন মালিথার ছেলে বাবলু-বিল্লাল বলেন , আমরা কাগজপত্র দেখিয়ে নিজেদের অধিকার চাইতে গেলে উল্টো আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করা হয় এবং অপবাদ দেওয়া হয়েছে। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই এবং প্রশাসনের কাছে দ্রুত ভূমি রেকর্ড ও দলিল যাচাই করে সুষ্ঠু নিষ্পত্তির দাবি জানাই।

অভিযোগকারী মঞ্জু রহমান আগে বলেছিলেন , বাবলু , রাজু ও বিল্লাল তাঁর জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করছেন। কিন্তু অভিযুক্তরা সেই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। এদিকে জমির মালিকানা নিয়ে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

স্থানীয় সূত্র জানায় , উভয় পক্ষের দলিল , খতিয়ান ও ভূমি রেকর্ড যাচাই-বাছাই করলেই প্রকৃত মালিকানা বোঝা যাবে। বিষয়টি ইতোমধ্যে স্থানীয় প্রশাসনের নজরে এসেছে বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য , ভূমি বিরোধের নিষ্পত্তি সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্ট দলিলের বৈধতা ও ভূমি অফিসের রেকর্ডের ভিত্তিতে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই সম্ভব। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসন বা ভূমি অফিস থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি।এদিকে কোনো বিবৃতি না আসায় আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তির দিকে পরিস্থিতি যাচ্ছে বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা।

Tag :
জনপ্রিয়

আলমডাঙ্গায় মাদক ‘কন্ট্রোলার’ কেশবপুরের ইমদাদুল গ্রেফতার সীমান্তঘেঁষা এলাকায় কারবার নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ, জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ

আলমডাঙ্গার বেলগাছীতে জমি দখলকে ঘিরে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

প্রকাশ: ০৬:৫০:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬

রিপোর্ট , আলমডাঙ্গা অফিসঃ

আলমডাঙ্গা উপজেলার বেলগাছী গ্রামে জোরপূর্বক জমি দখলের অভিযোগকে মিথ্যা ও বানোয়াট বলে উড়িয়ে দিয়ে পাল্টা আইনি কাগজপত্র দেখিয়েছেন অভিযুক্ত বাবলু রহমান , রাজু ও বিল্লাল। তাঁরা জানান , বিরোধপূর্ণ জমির কিছু অংশ তাঁদের ফুফুদের কাছ থেকে দলিলমূলে কিনেছেন তাঁদের বাবা। অন্যদিকে , অভিযোগকারী মঞ্জু রহমান ও তাঁর পরিবার দীর্ঘদিন ধরে ওই জমি ভোগদখল করে আসছেন বলে তাঁদের দাবি।

বুধবার (১২ আগস্ট) সরেজমিনে অভিযুক্ত তিনজন সাংবাদিকদের কাছে দলিলের কপি ও ভূমি অফিসের রেকর্ড দেখান। তাঁরা জানান , তাঁদের ফুফু সাহারন নেছা ও বাহারন নেছা যথাক্রমে ১৯৯৯ ও ১৯৯৫ সালে নিজেদের ভাই ভেকু মালিথা ও আজিমউদ্দিন মালিথার কাছে ফারাজি জমি বিক্রি করেন। এই বিক্রয় সংক্রান্ত আলাদা দুটি দলিল তাঁদের কাছে রয়েছে।

অভিযুক্তরা বলেন , ফুফুদের কাছ থেকে কেনা জমি দীর্ঘদিন ধরে তফেলউদ্দিনের ছেলে মঞ্জু ও তাঁর চার বোন ভোগ করে আসছেন। আমরা ভূমি অফিস থেকে খতিয়ান , দাগ নম্বর ও অন্যান্য নথি সংগ্রহ করে নিজেদের ন্যায্য দাবি জানিয়েছি। কাগজপত্র যাচাই করলেই বোঝা যাবে , আমরা কারও জমি দখল করতে যাইনি।

তাঁরা, জে. এল. ৭৮- নং বেলগাছী মৌজার আরএস রেকর্ডের বরাত দিয়ে জানান , খতিয়ান নম্বর ২৫৯২-তে দাগ নম্বর ১১৮৯৯-এ ২৯ শতক এবং একই মৌজার খতিয়ান নম্বর ২৫৯৩-তে দাগ নম্বর ১৬১৩২ , ১৬২৫২ ও ১৬৪৪১-এ যথাক্রমে ৪৮ , ৫১ ও ২৩ শতক জমির মধ্যে তাঁদের কেনা অংশ রয়েছে। খতিয়ান নম্বর ২৫৯২-তে আরও ১০টি দাগে তাঁদের ক্রয়কৃত জমি থাকলেও সেসব মঞ্জু ও তাঁর পরিবার ভোগ করছেন বলে অভিযোগ করেন তাঁরা। দাগগুলো হলো- ৫৪৭০ , ৫৪৯০ , ১২০৮৯ , ১২১৭২ , ১২১৭৩ , ১১৮৯৯ , ১২৫৩০ , ১৬২৫৯ , ১৬৩১৩ ও ১৬৪১০।

এ প্রসঙ্গে ভেকু মালিথার ছেলে রাজু ও আজিমউদ্দিন মালিথার ছেলে বাবলু-বিল্লাল বলেন , আমরা কাগজপত্র দেখিয়ে নিজেদের অধিকার চাইতে গেলে উল্টো আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করা হয় এবং অপবাদ দেওয়া হয়েছে। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই এবং প্রশাসনের কাছে দ্রুত ভূমি রেকর্ড ও দলিল যাচাই করে সুষ্ঠু নিষ্পত্তির দাবি জানাই।

অভিযোগকারী মঞ্জু রহমান আগে বলেছিলেন , বাবলু , রাজু ও বিল্লাল তাঁর জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করছেন। কিন্তু অভিযুক্তরা সেই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। এদিকে জমির মালিকানা নিয়ে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

স্থানীয় সূত্র জানায় , উভয় পক্ষের দলিল , খতিয়ান ও ভূমি রেকর্ড যাচাই-বাছাই করলেই প্রকৃত মালিকানা বোঝা যাবে। বিষয়টি ইতোমধ্যে স্থানীয় প্রশাসনের নজরে এসেছে বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য , ভূমি বিরোধের নিষ্পত্তি সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্ট দলিলের বৈধতা ও ভূমি অফিসের রেকর্ডের ভিত্তিতে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই সম্ভব। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসন বা ভূমি অফিস থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি।এদিকে কোনো বিবৃতি না আসায় আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তির দিকে পরিস্থিতি যাচ্ছে বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা।