চুয়াডাঙ্গা ০১:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হরিণাকুণ্ডুতে পাটে বাম্পার ফলন ; ছাড়িয়ে গেছে লক্ষ্যমাত্রা 

  • প্রকাশ: ০৫:০৭:০৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • 29

স্টাফ রিপোর্টার এম. টুকু মাহমুদঃ‎

ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলায় এবার পাটের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। গত বছরের তুলনায় দামও এবার বেশি। ফলে কৃষকরা লাভবান হয়েছেন। এতে পাটচাষিদের মনে স্বস্তি ফিরে এসেছে।কয়েকজন কৃষকের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গত বছর এই সময় প্রতি মন পাট বিক্রি হয়েছিল ২২০০-২৭০০ টাকা দরে। এতে কোনোরকমে উৎপাদন খরচ উঠলেও সেবার লাভের মুখ দেখেননি কৃষকরা। অনেকে লোকসানের মুখেও পড়েছিলেন। তবে এবার বাজারে প্রতি মন পাট বিক্রি হচ্ছে ৩৬০০-৩৮০০ টাকা দরে। কখনও কখনও ভালো পাটে ৪০০০ টাকাও মিলছে। এতে কৃষকদের এবার প্রতি মনে ৯০০- ১০০০ টাকা পর্যন্ত লাভ হচ্ছে।উপজেলার শিংগা গ্রামের পাটচাষি গোলাম হোসেন জানান, এবার তুলনামূলক খরচ কম হয়েছে। দামও গত বছরের তুলনায় এবার একটু বেশি। এই কৃষকের দাবি, গত বছর এক বিঘা জমিতে পাট উৎপাদন করতে প্রায় ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এবার সেই ব্যয় নেমে দাঁড়িয়েছে ৩০ হাজার টাকার মধ্যে। এর কারণ হিসেবে এই কৃষক দাবি করেন, গত বছর শ্রমিকের মজুরি ছিল ১ হাজার টাকা। এবার ৭০০-৮০০ টাকার মধ্যে শ্রমিক পাওয়া গেছে। তাছাড়া এবার মাঠের নিষ্কাশন ও সেচ খালেও কৃষকদের কিছুটা সুবিধা হয়েছে। খেতের পাট কেটে খালেই জাগ দেওয়া এবং পাট ধুয়ে খালপাড়ে শুকিয়ে একবারে ঘরে তোলা গেছে। এতে ব্যয় কিছুটা কমেছে। আর গত বছর যেখানে ২২০০-২৭০০ টাকা প্রতি মন পাটের দাম ছিল এবার বাজারে পাট ৩৫০০-৩৮০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। বাজারে এবার ঢলনও কম, ইজারাদারদের অতিরিক্ত টাকা আদাও কমে গেছে বলে দাবি করেন কৃষক গোলাম হোসেন।উপজেলা কৃষি দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এবার পাট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬৫৯০ মে.টন বা ৩১৬২২ বেল। আর উৎপাদন হয়েছে ৬৬৫২ মে. টন বা ৩৫৯৪৭ বেল। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৬২ মে.টন বেশি। ২৭১২ হেক্টর জমিতে চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হলেও পাটের আবাদ হয়েছে ২৭১৫ হেক্টর জমিতে। উপজেলার ১০৮৬০জন কৃষক এবার পাটের আবাদ করেছেন।গত বছর উৎপাদন হয়েছিল ৬৬৪৪ মে.টন। অর্থাৎ এবারও প্রায় সমপরিমাণ পাট উৎপাদন হয়েছে।কৃষকরা বলছেন, বীজ, সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরিসহ সবমিলিয়ে এবার প্রতি মন পাঠ উৎপদনে ব্যয় হয়েছে ২০০০-২১০০ টাকা। বিঘা প্রতি জমিতে ব্যয়ের পরিমাণ প্রায় ৩০ হাজার টাকা। ফলন ভালো হওয়ায় এবার প্রতি বিঘা জমিতে পাঠ হয়েছে ১৩-১৫ মন। ফলে প্রতি মন পাটে এবার কৃষকরা হাজার টাকা লাভের মুখ দেখছেন। বিঘাপ্রতি মুনাফার পরিমাণ প্রায় ১৪ হাজার টাকা। এছাড়া পাটকাঠি থেকে অতিরিক্ত আরও প্রায় ১০ হাজার আয় হচ্ছে কৃষকদের।উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের কয়েকজন কৃষক জানান, মৌসুমের শুরু থেকে কৃষি দপ্তর থেকে উন্নতজাতের বীজ সরবরাহ, কৃষকদের সঠিক পরামর্শ, নিষ্কাশন ও সেচ খাল থেকে পানি পাওয়া ও সময়মতো শ্রমিক পাওয়ায় এবার পাঠ উৎপাদনে তাঁদের বেগ পেতে হয়নি। এছাড়া ব্যয়ও কম হয়েছে। এছাড়া প্রশাসনের নিয়মিত পাটের বাজার তদারকি, ঢলন ব্যবস্থা ও অতিরিক্ত ইজারা আদায়ের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কারণে তাঁরা কিছুটা লাভের মুখ দেখছেন।উপজেলার শিতলী গ্রামের কৃষক আক্তার হোসেন বলেন, তিনি এবার দুই বিঘা জমিতে পাটের আবাদ করেছেন। খেতের পাশেই খাল খনন হয়েছে। সেই খাল থেকে জমি প্রস্তুতের জন্য পানি পেয়েছেন। একই খালে পাট কেটে জাগ দিয়ে এবং পরিস্কার করে ঘরে তুলেছেন। এর আগের বছর আবাদের জন্য চড়া মূল্যে ব্যক্তিগতভাবে গড়ে ওঠা সেচ মালিকদের কাছ থেকে পানি কিনতে হয়েছে। কিন্তু খাল খননের ফলে পানি কিনতে হয়নি। তাই উৎপাদন ব্যয় কম হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এবার ফলনও ভালো হয়েছে। দুই বিঘা জমিতে আমার ১৪ মন করে ২৮ মন পাট হয়েছে। আমি পুরো পাঠ ৩৮০০ টাকা দরে প্রতি মন বিক্রি করেছি। এতে শুধু পাটেই আমার ৩০ হাজার টাকা লাভ হয়েছে। আর পাটকাঠি বিক্রি করেছি আরও প্রায় ২০ হাজার টাকার। সবমিলিয়ে এবার আমি দুই বিঘা জমিতে পাটের আবাদ করে প্রায় ৫০ হাজার টাকা লাভ করেছি।সরজমিনে মঙ্গলবার সকাল নয়টায় উপজেলার মান্দিয়া এলাকায় পাটের পাইকার বাজারে গিয়ে কথা হয় কয়েকজন কৃষক ও পাইকার ক্রেতার সঙ্গে। তারা জানান, এবার পাটের দাম ভালো, বাজার ব্যবস্থাও অন্যবারের তুলনায় ভালো। ফলে পাট বিক্রেতা ও ক্রেতা সবাই খুশি।দেড় বিঘা জমিতে পাটের আবাদ করেছেন উপজেলার বেলতলা গ্রামের কৃষক আকাশ আলী। তিনি ওই বাজারে এসেছেন নিজের উৎপাদিত পাট বিক্রি করতে।আকাশ আলী প্রতিদিনের সংবাদ-কে বলেন, ২০ মন পাট নিয়ে এসেছি। প্রতি মন ৩৭০০ টাকা দরে বিক্রি করলাম। এবার মনে মাত্র ১ কেজি করে ঢলন নিয়েছে। এর আগে প্রতি মনে ২-৩ কেজি করে নিত। এছাড়া আগে ইজারাদার প্রতি মনে ২০ টাকা করে ইজারা নিত কিন্তু এবার কোনো ইজারা নেই। প্রশাসনের কঠোর নজরদারির কারণে এবার বাজারে অনেক অনিয়ম কমে গেছে। তাই প্রতি মন পাট বিক্রিতে এবার প্রায় ২০০ টাকা সাশ্রয় হচ্ছে। এছাড়া দামও এবার ভালো। এতে আমরা খুশি।তবে এই বাজারের ব্যাপারী রফিকুল ইসলাম দাবি করেন, তারা কোনো ঢলন নেন না। ডিজিটাল স্কেলের পরিবর্তে পাল্লায় সমান ৪০ কেজিতে মন হিসেবে পাটের মাপ করে কেনেন।ইজারাদার হামিদুল ইসলাম দাবি করেন, কৃষকের কাছ থেকে কোনো খাজনা নেওযা হয়না, ব্যাপারীরা ঢলনও নেন না। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শরীফ মোহাম্মদ তিতুমীর বলেন, আমরা উপজেলার কৃষকদের পাটের ভর্তুকিসহ নানা ধরনের পরামর্শ দিয়ে থাকি। এবার পাটের ভালো ফলন হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রাও ছাড়িয়ে গেছে। পাটের দামও ভালো। সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে যদি পাটের সোনালী সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলা সম্ভব হয় তাহলে কৃষক সোনালী মূল্যে পাট বিক্রয় করতে পারবে বলেও আশা এই কর্মকর্তা।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রদীপ্ত রায় দীপন বলেন, আমরা কৃষকের উৎপাদিত পণ্য ন্যায্য মূল্যে বিক্রির জন্য কঠোরভাবে বাজার নিয়ন্ত্রণ করছি। এক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম সহ্য করা হবে না।

Tag :
জনপ্রিয়

আলমডাঙ্গা কয়রাডাঙ্গা ট্রাকভর্তি ৪৪০ বস্তা টিএসপি সার উদ্ধার

হরিণাকুণ্ডুতে পাটে বাম্পার ফলন ; ছাড়িয়ে গেছে লক্ষ্যমাত্রা 

প্রকাশ: ০৫:০৭:০৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার এম. টুকু মাহমুদঃ‎

ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলায় এবার পাটের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। গত বছরের তুলনায় দামও এবার বেশি। ফলে কৃষকরা লাভবান হয়েছেন। এতে পাটচাষিদের মনে স্বস্তি ফিরে এসেছে।কয়েকজন কৃষকের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গত বছর এই সময় প্রতি মন পাট বিক্রি হয়েছিল ২২০০-২৭০০ টাকা দরে। এতে কোনোরকমে উৎপাদন খরচ উঠলেও সেবার লাভের মুখ দেখেননি কৃষকরা। অনেকে লোকসানের মুখেও পড়েছিলেন। তবে এবার বাজারে প্রতি মন পাট বিক্রি হচ্ছে ৩৬০০-৩৮০০ টাকা দরে। কখনও কখনও ভালো পাটে ৪০০০ টাকাও মিলছে। এতে কৃষকদের এবার প্রতি মনে ৯০০- ১০০০ টাকা পর্যন্ত লাভ হচ্ছে।উপজেলার শিংগা গ্রামের পাটচাষি গোলাম হোসেন জানান, এবার তুলনামূলক খরচ কম হয়েছে। দামও গত বছরের তুলনায় এবার একটু বেশি। এই কৃষকের দাবি, গত বছর এক বিঘা জমিতে পাট উৎপাদন করতে প্রায় ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এবার সেই ব্যয় নেমে দাঁড়িয়েছে ৩০ হাজার টাকার মধ্যে। এর কারণ হিসেবে এই কৃষক দাবি করেন, গত বছর শ্রমিকের মজুরি ছিল ১ হাজার টাকা। এবার ৭০০-৮০০ টাকার মধ্যে শ্রমিক পাওয়া গেছে। তাছাড়া এবার মাঠের নিষ্কাশন ও সেচ খালেও কৃষকদের কিছুটা সুবিধা হয়েছে। খেতের পাট কেটে খালেই জাগ দেওয়া এবং পাট ধুয়ে খালপাড়ে শুকিয়ে একবারে ঘরে তোলা গেছে। এতে ব্যয় কিছুটা কমেছে। আর গত বছর যেখানে ২২০০-২৭০০ টাকা প্রতি মন পাটের দাম ছিল এবার বাজারে পাট ৩৫০০-৩৮০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। বাজারে এবার ঢলনও কম, ইজারাদারদের অতিরিক্ত টাকা আদাও কমে গেছে বলে দাবি করেন কৃষক গোলাম হোসেন।উপজেলা কৃষি দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এবার পাট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬৫৯০ মে.টন বা ৩১৬২২ বেল। আর উৎপাদন হয়েছে ৬৬৫২ মে. টন বা ৩৫৯৪৭ বেল। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৬২ মে.টন বেশি। ২৭১২ হেক্টর জমিতে চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হলেও পাটের আবাদ হয়েছে ২৭১৫ হেক্টর জমিতে। উপজেলার ১০৮৬০জন কৃষক এবার পাটের আবাদ করেছেন।গত বছর উৎপাদন হয়েছিল ৬৬৪৪ মে.টন। অর্থাৎ এবারও প্রায় সমপরিমাণ পাট উৎপাদন হয়েছে।কৃষকরা বলছেন, বীজ, সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরিসহ সবমিলিয়ে এবার প্রতি মন পাঠ উৎপদনে ব্যয় হয়েছে ২০০০-২১০০ টাকা। বিঘা প্রতি জমিতে ব্যয়ের পরিমাণ প্রায় ৩০ হাজার টাকা। ফলন ভালো হওয়ায় এবার প্রতি বিঘা জমিতে পাঠ হয়েছে ১৩-১৫ মন। ফলে প্রতি মন পাটে এবার কৃষকরা হাজার টাকা লাভের মুখ দেখছেন। বিঘাপ্রতি মুনাফার পরিমাণ প্রায় ১৪ হাজার টাকা। এছাড়া পাটকাঠি থেকে অতিরিক্ত আরও প্রায় ১০ হাজার আয় হচ্ছে কৃষকদের।উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের কয়েকজন কৃষক জানান, মৌসুমের শুরু থেকে কৃষি দপ্তর থেকে উন্নতজাতের বীজ সরবরাহ, কৃষকদের সঠিক পরামর্শ, নিষ্কাশন ও সেচ খাল থেকে পানি পাওয়া ও সময়মতো শ্রমিক পাওয়ায় এবার পাঠ উৎপাদনে তাঁদের বেগ পেতে হয়নি। এছাড়া ব্যয়ও কম হয়েছে। এছাড়া প্রশাসনের নিয়মিত পাটের বাজার তদারকি, ঢলন ব্যবস্থা ও অতিরিক্ত ইজারা আদায়ের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কারণে তাঁরা কিছুটা লাভের মুখ দেখছেন।উপজেলার শিতলী গ্রামের কৃষক আক্তার হোসেন বলেন, তিনি এবার দুই বিঘা জমিতে পাটের আবাদ করেছেন। খেতের পাশেই খাল খনন হয়েছে। সেই খাল থেকে জমি প্রস্তুতের জন্য পানি পেয়েছেন। একই খালে পাট কেটে জাগ দিয়ে এবং পরিস্কার করে ঘরে তুলেছেন। এর আগের বছর আবাদের জন্য চড়া মূল্যে ব্যক্তিগতভাবে গড়ে ওঠা সেচ মালিকদের কাছ থেকে পানি কিনতে হয়েছে। কিন্তু খাল খননের ফলে পানি কিনতে হয়নি। তাই উৎপাদন ব্যয় কম হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এবার ফলনও ভালো হয়েছে। দুই বিঘা জমিতে আমার ১৪ মন করে ২৮ মন পাট হয়েছে। আমি পুরো পাঠ ৩৮০০ টাকা দরে প্রতি মন বিক্রি করেছি। এতে শুধু পাটেই আমার ৩০ হাজার টাকা লাভ হয়েছে। আর পাটকাঠি বিক্রি করেছি আরও প্রায় ২০ হাজার টাকার। সবমিলিয়ে এবার আমি দুই বিঘা জমিতে পাটের আবাদ করে প্রায় ৫০ হাজার টাকা লাভ করেছি।সরজমিনে মঙ্গলবার সকাল নয়টায় উপজেলার মান্দিয়া এলাকায় পাটের পাইকার বাজারে গিয়ে কথা হয় কয়েকজন কৃষক ও পাইকার ক্রেতার সঙ্গে। তারা জানান, এবার পাটের দাম ভালো, বাজার ব্যবস্থাও অন্যবারের তুলনায় ভালো। ফলে পাট বিক্রেতা ও ক্রেতা সবাই খুশি।দেড় বিঘা জমিতে পাটের আবাদ করেছেন উপজেলার বেলতলা গ্রামের কৃষক আকাশ আলী। তিনি ওই বাজারে এসেছেন নিজের উৎপাদিত পাট বিক্রি করতে।আকাশ আলী প্রতিদিনের সংবাদ-কে বলেন, ২০ মন পাট নিয়ে এসেছি। প্রতি মন ৩৭০০ টাকা দরে বিক্রি করলাম। এবার মনে মাত্র ১ কেজি করে ঢলন নিয়েছে। এর আগে প্রতি মনে ২-৩ কেজি করে নিত। এছাড়া আগে ইজারাদার প্রতি মনে ২০ টাকা করে ইজারা নিত কিন্তু এবার কোনো ইজারা নেই। প্রশাসনের কঠোর নজরদারির কারণে এবার বাজারে অনেক অনিয়ম কমে গেছে। তাই প্রতি মন পাট বিক্রিতে এবার প্রায় ২০০ টাকা সাশ্রয় হচ্ছে। এছাড়া দামও এবার ভালো। এতে আমরা খুশি।তবে এই বাজারের ব্যাপারী রফিকুল ইসলাম দাবি করেন, তারা কোনো ঢলন নেন না। ডিজিটাল স্কেলের পরিবর্তে পাল্লায় সমান ৪০ কেজিতে মন হিসেবে পাটের মাপ করে কেনেন।ইজারাদার হামিদুল ইসলাম দাবি করেন, কৃষকের কাছ থেকে কোনো খাজনা নেওযা হয়না, ব্যাপারীরা ঢলনও নেন না। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শরীফ মোহাম্মদ তিতুমীর বলেন, আমরা উপজেলার কৃষকদের পাটের ভর্তুকিসহ নানা ধরনের পরামর্শ দিয়ে থাকি। এবার পাটের ভালো ফলন হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রাও ছাড়িয়ে গেছে। পাটের দামও ভালো। সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে যদি পাটের সোনালী সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলা সম্ভব হয় তাহলে কৃষক সোনালী মূল্যে পাট বিক্রয় করতে পারবে বলেও আশা এই কর্মকর্তা।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রদীপ্ত রায় দীপন বলেন, আমরা কৃষকের উৎপাদিত পণ্য ন্যায্য মূল্যে বিক্রির জন্য কঠোরভাবে বাজার নিয়ন্ত্রণ করছি। এক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম সহ্য করা হবে না।