
রিপোর্ট ,আলমডাঙ্গা অফিসঃ
পাখিভ্যান তালা দেওয়া ছিল। বাড়ির সামনেই রাস্তার পাশে রাখা। ঘরের ভেতরে যাওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই ফিরে এসে দেখলেন তালা ভাঙা , পাখিভ্যান নেই। প্রতিবন্ধী ছেলেকে নিয়ে সংসারের একমাত্র আয়ের অবলম্বনটিও চোরের হাতে চলে গেছে। শেষ সম্বল হারিয়ে দিশেহারা বৃদ্ধ আসাদুল (৬৩)। স্বজনদের সঙ্গে নিয়ে ছুটেছেন থানায়।গতকাল সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) , দুপুর ১টার দিকে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার বেলগাছী গ্রামের মালিথাপাড়ায় ঘটে এ ঘটনা। এ ঘটনায় আলমডাঙ্গা থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন ভ্যানের মালিক আসাদুল।পরিবার সূত্রে জানা যায় , আসাদুলের ছেলে জীবন (২৬) প্রতিবন্ধী। প্রায় পাঁচ বছর আগে আলমডাঙ্গা শহরের (পজেটিভ আলমডাঙ্গা) সামাজিক সংঘের সহায়তায় তাঁদের পরিবার পাখিভ্যানটি পায়। ছেলে চালাতে না পারায় সেই ভ্যান চালিয়েই সংসারের খরচ জোগাতেন আসাদুল।আসাদুল জানান , সোমবার সকালে ভ্যান নিয়ে বেলগাছী বাজারে যান তিনি। কাজ শেষে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বাড়ি ফিরে ভ্যানটি বাড়ির সামনের রাস্তায় রেখে তালা দেন। এরপর ঘরে ঢোকেন। কিছুক্ষণ পর বের হয়েই দেখেন , ভ্যান উধাও। ভাঙা পড়ে আছে তালাটি।এর আগে দূর থেকে দুজনকে মোটরসাইকেলে এসে ভ্যানটির আশপাশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছিলেন বলে জানান তিনি। তাঁদের সিগারেট খাওয়া ও মোবাইলে কথা বলতেও দেখেন। আসাদুলের ধারণা , সুযোগ বুঝে তাঁরাই ভ্যানটি নিয়ে যেতে পারেন। তবে তাঁদের পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেননি তিনি।ভ্যান হারানোর পর স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে আশপাশের এলাকায় খোঁজ করেও কোনো সন্ধান পাননি। পরে বাধ্য হয়ে থানায় অভিযোগ করেন।পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য , পাখিভ্যানটি তাঁদের কাছে শুধু একটি যানবাহন ছিল না , প্রতিবন্ধী ছেলেকে নিয়ে বেঁচে থাকার শেষ অবলম্বন ছিল। সেটিও হারিয়ে এখন সংসারের চুলা জ্বলবে কীভাবে তা নিয়েই দুশ্চিন্তায় পরিবারটি।আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাণী ইসরাইল বলেন , এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ হয়েছে। পাখিভ্যানটি উদ্ধারের চেষ্টা করছে পুলিশ। ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে।



















