চুয়াডাঙ্গা ০৬:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এফডিআই বাড়াতে কাঠামোগত সংস্কারের তাগিদ, ২০৩০ সালের মধ্যে ১৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের লক্ষ্য: ফিকি

  • প্রকাশ: ১০:৩২:৫০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
  • 61

ছবি-সংগৃহীত

সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) বাড়াতে দ্রুত নীতিগত ও কাঠামোগত সংস্কারের ওপর জোর দিয়েছে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সংগঠন ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ফিকি)। সংস্থাটি বলছে, এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং উচ্চপ্রযুক্তিনির্ভর টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে এফডিআই আকর্ষণই বাংলাদেশের সবচেয়ে কার্যকর কৌশল হতে পারে।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এফডিআই সম্মেলনে প্রকাশিত এফডিআই রিপোর্ট-২০২৬’-এ ফিকি জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়ন করা গেলে ২০৩০ সালের মধ্যে বছরে ১৫ বিলিয়ন ডলার প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ সম্ভব। বর্তমানে বাংলাদেশে বছরে দুই বিলিয়ন ডলারেরও কম এফডিআই আসে এবং এফডিআই-জিডিপি অনুপাত মাত্র ০.৩৬ শতাংশ, যা ২০৩০ সালের মধ্যে ২.৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লজিস্টিকস, বিনিয়োগকারী সুরক্ষা, শিল্পনীতি, বাণিজ্য একীভূতকরণ এবং করব্যবস্থাসহ ছয়টি প্রধান সূচকের মধ্যে পাঁচটিতেই বাংলাদেশ আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী ভারত, ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়ার তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে। লজিস্টিকস পারফরম্যান্স ইনডেক্সে বাংলাদেশের অবস্থান ৮৮তম, যেখানে ভারতের অবস্থান ৩৮তম এবং ভিয়েতনামের ৪৩তম।

ফিকির মতে, বিনিয়োগকারী সুরক্ষায় বাংলাদেশ এখনও পুরোনো আইননির্ভর হওয়ায় বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ছে না। পাশাপাশি কার্যকর করহার ৪৩ থেকে ৪৮ শতাংশ হওয়ায় বিনিয়োগে বড় বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। অর্থনৈতিক অঞ্চলের সক্ষমতায় বাংলাদেশ কিছুটা অগ্রগতি করলেও কার্যকর অর্থনৈতিক অঞ্চলের সংখ্যা এখনও মাত্র ১০টি, যেখানে ভারতে রয়েছে ২৭৬টি এবং ভিয়েতনামে ৪৪টি।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এফডিআই শুধু বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহই বাড়াবে না; প্রযুক্তি হস্তান্তর, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিল্পখাতের বৈচিত্র্য এবং রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এতে ঋণনির্ভর অর্থায়নের চাপ কমবে এবং স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো আন্তর্জাতিক মানের ব্যবস্থাপনা ও প্রযুক্তি গ্রহণের সুযোগ পাবে।

সম্ভাবনাময় বিনিয়োগ খাত হিসেবে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি ওষুধ শিল্প, তথ্যপ্রযুক্তি ও ডিজিটাল সেবা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, হালকা প্রকৌশল, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং চামড়াজাত পণ্য খাতকে চিহ্নিত করেছে ফিকি। একই সঙ্গে নেদারল্যান্ডস, যুক্তরাজ্য, চীন, সিঙ্গাপুর, ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে জাপান এবং আসিয়ানভুক্ত দেশগুলো থেকেও বড় পরিসরে বিনিয়োগ আসার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

জনপ্রিয়

জীবননগরে সিজারের চার দিন পর প্রসূতির মৃত্যু, ক্লিনিক সিলগালা

এফডিআই বাড়াতে কাঠামোগত সংস্কারের তাগিদ, ২০৩০ সালের মধ্যে ১৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের লক্ষ্য: ফিকি

প্রকাশ: ১০:৩২:৫০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) বাড়াতে দ্রুত নীতিগত ও কাঠামোগত সংস্কারের ওপর জোর দিয়েছে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সংগঠন ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ফিকি)। সংস্থাটি বলছে, এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং উচ্চপ্রযুক্তিনির্ভর টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে এফডিআই আকর্ষণই বাংলাদেশের সবচেয়ে কার্যকর কৌশল হতে পারে।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এফডিআই সম্মেলনে প্রকাশিত এফডিআই রিপোর্ট-২০২৬’-এ ফিকি জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়ন করা গেলে ২০৩০ সালের মধ্যে বছরে ১৫ বিলিয়ন ডলার প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ সম্ভব। বর্তমানে বাংলাদেশে বছরে দুই বিলিয়ন ডলারেরও কম এফডিআই আসে এবং এফডিআই-জিডিপি অনুপাত মাত্র ০.৩৬ শতাংশ, যা ২০৩০ সালের মধ্যে ২.৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লজিস্টিকস, বিনিয়োগকারী সুরক্ষা, শিল্পনীতি, বাণিজ্য একীভূতকরণ এবং করব্যবস্থাসহ ছয়টি প্রধান সূচকের মধ্যে পাঁচটিতেই বাংলাদেশ আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী ভারত, ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়ার তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে। লজিস্টিকস পারফরম্যান্স ইনডেক্সে বাংলাদেশের অবস্থান ৮৮তম, যেখানে ভারতের অবস্থান ৩৮তম এবং ভিয়েতনামের ৪৩তম।

ফিকির মতে, বিনিয়োগকারী সুরক্ষায় বাংলাদেশ এখনও পুরোনো আইননির্ভর হওয়ায় বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ছে না। পাশাপাশি কার্যকর করহার ৪৩ থেকে ৪৮ শতাংশ হওয়ায় বিনিয়োগে বড় বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। অর্থনৈতিক অঞ্চলের সক্ষমতায় বাংলাদেশ কিছুটা অগ্রগতি করলেও কার্যকর অর্থনৈতিক অঞ্চলের সংখ্যা এখনও মাত্র ১০টি, যেখানে ভারতে রয়েছে ২৭৬টি এবং ভিয়েতনামে ৪৪টি।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এফডিআই শুধু বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহই বাড়াবে না; প্রযুক্তি হস্তান্তর, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিল্পখাতের বৈচিত্র্য এবং রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এতে ঋণনির্ভর অর্থায়নের চাপ কমবে এবং স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো আন্তর্জাতিক মানের ব্যবস্থাপনা ও প্রযুক্তি গ্রহণের সুযোগ পাবে।

সম্ভাবনাময় বিনিয়োগ খাত হিসেবে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি ওষুধ শিল্প, তথ্যপ্রযুক্তি ও ডিজিটাল সেবা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, হালকা প্রকৌশল, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং চামড়াজাত পণ্য খাতকে চিহ্নিত করেছে ফিকি। একই সঙ্গে নেদারল্যান্ডস, যুক্তরাজ্য, চীন, সিঙ্গাপুর, ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে জাপান এবং আসিয়ানভুক্ত দেশগুলো থেকেও বড় পরিসরে বিনিয়োগ আসার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।