চুয়াডাঙ্গা ১১:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গ্রিন কার্ড নীতি নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন সিদ্ধান্ত

  • প্রকাশ: ০৯:০২:৪৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬
  • 137

সংগৃহীত ছবি

গ্রিন কার্ড নিয়ে সম্প্রতি ট্রাম্প প্রশাসন যে নীতি ঘোষণা করেছিল, সেখান থেকে সরে এসেছে। নিউ ইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক বক্তব্যে মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের (ডিএইচএস) এক মুখপাত্র বলেছেন, মার্কিন গ্রিন কার্ড প্রত্যাশী সব অভিবাসীকে আবেদনের জন্য নিজ দেশে ফিরে যেতে হবে না।

বিশেষ বিশেষ ব্যক্তির ক্ষেত্রে এ নিয়ম প্রযোজ্য হবে। গ্রিন কার্ড হলো কোনো বিদেশি নাগরিকের যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের সরকারি পরিচয়পত্র। এর মাধ্যমে কোনো বিদেশি নাগরিক যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পান না ঠিকই; তবে তাকে স্থায়ীভাবে দেশটিতে থাকতে এবং কাজ করতে দেওয়া হয়।

নাম প্রকাশ না করে ডিএইচএসের ওই মুখপাত্র বলেন, আগের সিদ্ধান্তটি ছিল মূলত কিছু কর্মকর্তার ‘একচ্ছত্র বিবেচনামূলক ক্ষমতার’ একটি অনুস্মারক।

যারা ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অতিরিক্ত সময় অবস্থান করছেন কিংবা যেসব দেশের নাগরিকরা সরকারি সুযোগ-সুবিধার ওপর বেশি নির্ভরশীল, মূলত তারাই এই নীতির মাধ্যমে প্রভাবিত হতে পারেন।

নিউ ইয়র্ক টাইমস ডিএইচএসের এই নতুন সিদ্ধান্তকে ট্রাম্প প্রশাসনের একটি ‘ইউ টার্ন’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। কারণ এর আগে মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা (ইউএসসিআইএস) কেন্দ্র বলেছিল, যারা যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বা গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করতে চান, তাদের নিজ দেশে ফিরে গিয়ে অপেক্ষা করতে হবে।

ইউএসসিআইএসের এই সিদ্ধান্তের পর পরই মার্কিন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা এবং অভিবাসন আইনজীবীদের কাছ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া আসে।

তাদের দাবি, এই পদক্ষেপের ফলে পরিবারগুলো বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে এবং খরচ বেড়ে যাবে, যা শেষ পর্যন্ত এক চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি করবে। তবে এখন ডিএইচএস ব্যাখ্যা করেছে, গত ২২ মে জারি করা ইউএসসিআইএসের সিদ্ধান্তটি কোনো ঢালাও পরিবর্তন ছিল না। কাউকে গ্রিন কার্ড পাওয়ার জন্য দেশে ফিরে যেতে বাধ্য করা হবে কি না, তা সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্ট অভিবাসন কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।

কিছু অভিবাসন আইনজীবীর বরাত দিয়ে নিউ ইয়র্ক টাইমস বলছে, এরই মধ্যে ইউএসসিআইএস কর্মকর্তারা আবেদনকারীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা শুরু করেছেন। তারা আবেদনকারীদের কাছে জানতে চাইছেন, কেন তারা যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে থেকেই গ্রিন কার্ডের আবেদন করছেন এবং নিজ দেশ থেকে আবেদনের ক্ষেত্রে তাদের কোনো বাধা আছে কি না।

মার্কিন শিল্প খাতের নেতাদের বরাতে প্রতিবেদনে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়, নতুন নীতিটি প্রযুক্তি কম্পানিগুলোর জন্য বড় ধরনের বিপর্যয় তৈরি হতে পারে। কারণ এই কম্পানিগুলো অস্থায়ী ভিসায় আসা বিদেশি পেশাদারদের ওপর বহুলাংশে নির্ভরশীল, যাদের অনেকেই স্থায়ীভাবে বসবাস এবং পরে মার্কিন নাগরিক হওয়ার স্বপ্ন দেখেন।সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস

জনপ্রিয়

জীবননগরে সিজারের চার দিন পর প্রসূতির মৃত্যু, ক্লিনিক সিলগালা

গ্রিন কার্ড নীতি নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন সিদ্ধান্ত

প্রকাশ: ০৯:০২:৪৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬

গ্রিন কার্ড নিয়ে সম্প্রতি ট্রাম্প প্রশাসন যে নীতি ঘোষণা করেছিল, সেখান থেকে সরে এসেছে। নিউ ইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক বক্তব্যে মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের (ডিএইচএস) এক মুখপাত্র বলেছেন, মার্কিন গ্রিন কার্ড প্রত্যাশী সব অভিবাসীকে আবেদনের জন্য নিজ দেশে ফিরে যেতে হবে না।

বিশেষ বিশেষ ব্যক্তির ক্ষেত্রে এ নিয়ম প্রযোজ্য হবে। গ্রিন কার্ড হলো কোনো বিদেশি নাগরিকের যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের সরকারি পরিচয়পত্র। এর মাধ্যমে কোনো বিদেশি নাগরিক যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পান না ঠিকই; তবে তাকে স্থায়ীভাবে দেশটিতে থাকতে এবং কাজ করতে দেওয়া হয়।

নাম প্রকাশ না করে ডিএইচএসের ওই মুখপাত্র বলেন, আগের সিদ্ধান্তটি ছিল মূলত কিছু কর্মকর্তার ‘একচ্ছত্র বিবেচনামূলক ক্ষমতার’ একটি অনুস্মারক।

যারা ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অতিরিক্ত সময় অবস্থান করছেন কিংবা যেসব দেশের নাগরিকরা সরকারি সুযোগ-সুবিধার ওপর বেশি নির্ভরশীল, মূলত তারাই এই নীতির মাধ্যমে প্রভাবিত হতে পারেন।

নিউ ইয়র্ক টাইমস ডিএইচএসের এই নতুন সিদ্ধান্তকে ট্রাম্প প্রশাসনের একটি ‘ইউ টার্ন’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। কারণ এর আগে মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা (ইউএসসিআইএস) কেন্দ্র বলেছিল, যারা যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বা গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করতে চান, তাদের নিজ দেশে ফিরে গিয়ে অপেক্ষা করতে হবে।

ইউএসসিআইএসের এই সিদ্ধান্তের পর পরই মার্কিন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা এবং অভিবাসন আইনজীবীদের কাছ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া আসে।

তাদের দাবি, এই পদক্ষেপের ফলে পরিবারগুলো বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে এবং খরচ বেড়ে যাবে, যা শেষ পর্যন্ত এক চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি করবে। তবে এখন ডিএইচএস ব্যাখ্যা করেছে, গত ২২ মে জারি করা ইউএসসিআইএসের সিদ্ধান্তটি কোনো ঢালাও পরিবর্তন ছিল না। কাউকে গ্রিন কার্ড পাওয়ার জন্য দেশে ফিরে যেতে বাধ্য করা হবে কি না, তা সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্ট অভিবাসন কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।

কিছু অভিবাসন আইনজীবীর বরাত দিয়ে নিউ ইয়র্ক টাইমস বলছে, এরই মধ্যে ইউএসসিআইএস কর্মকর্তারা আবেদনকারীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা শুরু করেছেন। তারা আবেদনকারীদের কাছে জানতে চাইছেন, কেন তারা যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে থেকেই গ্রিন কার্ডের আবেদন করছেন এবং নিজ দেশ থেকে আবেদনের ক্ষেত্রে তাদের কোনো বাধা আছে কি না।

মার্কিন শিল্প খাতের নেতাদের বরাতে প্রতিবেদনে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়, নতুন নীতিটি প্রযুক্তি কম্পানিগুলোর জন্য বড় ধরনের বিপর্যয় তৈরি হতে পারে। কারণ এই কম্পানিগুলো অস্থায়ী ভিসায় আসা বিদেশি পেশাদারদের ওপর বহুলাংশে নির্ভরশীল, যাদের অনেকেই স্থায়ীভাবে বসবাস এবং পরে মার্কিন নাগরিক হওয়ার স্বপ্ন দেখেন।সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস