চুয়াডাঙ্গা ০৭:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত আরও তীব্র, পরমাণু স্থাপনায় হামলার দাবি; পাল্টা জবাবের হুঁশিয়ারি তেহরানের

  • প্রকাশ: ১০:৪৫:৫৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
  • 54

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সামরিক উত্তেজনা আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। টানা অষ্টম রাতের মতো ইরানে হামলা চালানোর দাবি করেছে মার্কিন বাহিনী। এতে দেশটির একটি নির্মাণাধীন পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ একাধিক স্থাপনা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। জবাবে কুয়েতে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলার দাবি করেছে তেহরান এবং যুক্তরাষ্ট্রকে ‘বিপর্যয়কর জবাব’ দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের সামরিক বাহিনী।

নতুন করে সংঘাত বাড়ার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ১৭ জুন স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছেন ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘরিবাবাদি। তার অভিযোগ, ওয়াশিংটন স্মারকের শর্ত লঙ্ঘন করেছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ সিদ্ধান্তকে গুরুত্বহীন বলে মন্তব্য করেছেন।

দুই দেশের বিরোধের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে হরমুজ প্রণালি। সমঝোতা অনুযায়ী ইরানের নির্ধারিত রুটে জাহাজ চলাচলের কথা থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র বিকল্প পথ ব্যবহারের চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ তেহরানের। এ নিয়ে উত্তেজনার মধ্যেই হরমুজে চারটি জাহাজকে সতর্ক করে ইরান। তাদের দাবি, দুটি জাহাজ ফিরে গেলেও অন্য দুটি ‘দুর্ঘটনার’ শিকার হয়েছে।

এদিকে, আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ) জানিয়েছে, হামলার শিকার দারখোভিন অঞ্চলের পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রটির নির্মাণকাজ প্রাথমিক পর্যায়ে ছিল। সংস্থাটি ঘটনার তদন্ত করছে। ইরানের আণবিক শক্তি সংস্থা এ হামলাকে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন ও ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের দাবি, হামলার উদ্দেশ্য ছিল হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করা এবং জর্ডানে মার্কিন সেনাদের ওপর হামলার জন্য ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোরকে জবাব দেওয়া। একই রাতে সিরিক ও শাদেগান এলাকাতেও হামলা চালানো হয়।

এর পাল্টা হিসেবে কুয়েতের আল আদিরি ক্যাম্প ও আলী আল সালেম বিমানঘাঁটিতে মার্কিন স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলার দাবি করেছে ইরান। পাশাপাশি কুয়েতে একটি পানি পরিশোধনাগারে দ্বিতীয় দিনের মতো হামলার খবর পাওয়া গেছে। জর্ডানও জানিয়েছে, তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করা কয়েকটি ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। পরিস্থিতির ক্রমাবনতিতে পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নতুন করে নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

জনপ্রিয়

জীবননগরে সিজারের চার দিন পর প্রসূতির মৃত্যু, ক্লিনিক সিলগালা

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত আরও তীব্র, পরমাণু স্থাপনায় হামলার দাবি; পাল্টা জবাবের হুঁশিয়ারি তেহরানের

প্রকাশ: ১০:৪৫:৫৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সামরিক উত্তেজনা আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। টানা অষ্টম রাতের মতো ইরানে হামলা চালানোর দাবি করেছে মার্কিন বাহিনী। এতে দেশটির একটি নির্মাণাধীন পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ একাধিক স্থাপনা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। জবাবে কুয়েতে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলার দাবি করেছে তেহরান এবং যুক্তরাষ্ট্রকে ‘বিপর্যয়কর জবাব’ দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের সামরিক বাহিনী।

নতুন করে সংঘাত বাড়ার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ১৭ জুন স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছেন ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘরিবাবাদি। তার অভিযোগ, ওয়াশিংটন স্মারকের শর্ত লঙ্ঘন করেছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ সিদ্ধান্তকে গুরুত্বহীন বলে মন্তব্য করেছেন।

দুই দেশের বিরোধের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে হরমুজ প্রণালি। সমঝোতা অনুযায়ী ইরানের নির্ধারিত রুটে জাহাজ চলাচলের কথা থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র বিকল্প পথ ব্যবহারের চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ তেহরানের। এ নিয়ে উত্তেজনার মধ্যেই হরমুজে চারটি জাহাজকে সতর্ক করে ইরান। তাদের দাবি, দুটি জাহাজ ফিরে গেলেও অন্য দুটি ‘দুর্ঘটনার’ শিকার হয়েছে।

এদিকে, আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ) জানিয়েছে, হামলার শিকার দারখোভিন অঞ্চলের পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রটির নির্মাণকাজ প্রাথমিক পর্যায়ে ছিল। সংস্থাটি ঘটনার তদন্ত করছে। ইরানের আণবিক শক্তি সংস্থা এ হামলাকে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন ও ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের দাবি, হামলার উদ্দেশ্য ছিল হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করা এবং জর্ডানে মার্কিন সেনাদের ওপর হামলার জন্য ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোরকে জবাব দেওয়া। একই রাতে সিরিক ও শাদেগান এলাকাতেও হামলা চালানো হয়।

এর পাল্টা হিসেবে কুয়েতের আল আদিরি ক্যাম্প ও আলী আল সালেম বিমানঘাঁটিতে মার্কিন স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলার দাবি করেছে ইরান। পাশাপাশি কুয়েতে একটি পানি পরিশোধনাগারে দ্বিতীয় দিনের মতো হামলার খবর পাওয়া গেছে। জর্ডানও জানিয়েছে, তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করা কয়েকটি ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। পরিস্থিতির ক্রমাবনতিতে পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নতুন করে নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।